বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর, ২০২৪

মায়া

 মায়া মানেই কঠিন একটা জাল। মানুষ ধীরে ধীরে মায়ায় পড়ে যায়। কারও কথার, কারও চোখের, কারওবা কণ্ঠের।

যার কথার মায়ায় পড়বেন, তার প্রতিটি শব্দকেই কবিতা মনে হবে। যার কণ্ঠের মায়ায় পড়বেন, তার বলা প্রতিটি বাক্যই গান মনে হবে। যার চোখের মায়ায় পড়বেন, তার চোখের দিকে তাকালেই আপনি অচেনা গভীর এক সমুদ্রে ডুবে যাবেন। মায়া বড়ো জ্বালা!
মানুষ হুট করে প্রেমে পড়লেও কখনও হুট করে কারও মায়ায় পড়ে না। মায়ায় পড়ে ধীরে ধীরে, আর ধীরে ধীরে তৈরি-হওয়া যে-কোনও জিনিসই কঠিন ধরনের হয়। তরল সিমেন্ট যেমন ধীরে ধীরে জমে পাথরের মতো হয়ে যায়, একটু একটু করে চলা নদী যেমন সাগরে মিলে যায়, একটা ছোটো চারাগাছ যেমন বাড়তে বাড়তে আকাশচুম্বী প্রকাণ্ড বটগাছ হয়ে যায়, ঠিক মায়াও তেমনি বাড়তে বাড়তে একটা শেকড়-গাড়া শক্ত গাছের মতো হয়ে যায়, চাইলেই যাকে আর উপড়ে ফেলা যায় না। দরকার হলে মানুষ নিজেকে ছাড়তে পারে, তবু মায়া ছাড়তে পারে না।
হুট করে কারও প্রেমে পড়লে হুট করে উঠেও যাওয়া যায়, কিন্তু ধীরে ধীরে কারও মায়ায় পড়লে আপনি সেখানে চোরাবালির মতো গেড়ে যাবেন, আর উঠতে পারবেন না শতচেষ্টা করলেও।
মায়া বড়ো কঠিন জিনিস। বইয়ের তাকে দীর্ঘকাল অযত্নে পড়ে-থাকা পুরোনো বইটা পোকায় খেলে খুব কষ্ট লাগবে, দীর্ঘকাল ধরে ব্যবহৃত চুলের ক্লিপটা ভেঙে গেলে ডাস্টবিনে ফেলতে গিয়ে কী এক নিবিড় মায়ায় উলটেপালটে বার বার ছুঁয়ে দেখি, অফিস যেতে প্রতিদিন দেখা-হওয়া পাগলাটে কুকুরটা মারা গেলে মধ্যরাতে তার জন্য মনটা মুচড়ে মুচড়ে উঠবে। যে আপনার কেউই হয় না, একবার তার মায়ায় পড়ে গেলে দেখবেন, সে আপনার পুরো পৃথিবীটাই হয়!
মায়া মানেই বড্ড কঠিন এক জাল, যে জালে এক বার পড়লে তা আপনাকে সাপের মতো আষ্টেপৃষ্ঠে আটকে ফেলবে, আপনি ধীরেই আরও গভীরতর মায়ায় আটকে যাবেন, বেরোনোর পথ খুঁজে পাবেন না কিছুতেই। মানুষ সব ধরনের বন্ধন থেকে বেরিয়ে যেতে পারে, কিন্তু মায়া থেকে সহজে বেরোতে পারে না। এক মায়াই যেন এ সংসারের ধ্রুব কায়া!
এজন্যই চলে যাবার অনেক পথ খোলা থাকার পরও আমরা চলে যাই না। ছেড়ে যাবার অনেক কারণ থাকার পরও আমরা ছেড়ে যাই না। ব্যাঙের মতো হাত-পা গুটিয়ে ওই এক পুরোনো গর্তেই এক জায়গাতেই কীরকম যেন নিশ্চেষ্ট নির্ভার হয়ে বসে থাকি।
যন্ত্রণায় প্রাণ যায় যায়, মায়াটা তবু থেকেই যায়!

মঙ্গলবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২৩

★জমি রেজিস্ট্রির আগে এই বিষয়গুলো জানা খুব জরুরী,


সারা জীবনের সঞ্চয় দিয়ে অনেক মানুষ শেষ বয়সে এসে এক খন্ড জমি কিনে যাতে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তার মাথা গুজার একটু জায়গা থাকে। কিন্তু জমি কিনেই ঝামেলায় পড়েছেন অনেকে। কেউ আবার হয়েছেন সর্বশান্ত।
মূলত জমি সংক্রান্ত বিষয়ে স্বল্প জ্ঞান ও অসতর্কতার কারণেই মানুষ এই ঝামেলায় পড়ে। তাই জমি কেনার আগে অবশ্যই সতর্ক হতে হবে। চলুন তবে জেনে নেয়া যাক জমি রেজিস্ট্রির আগে যে বিষয়গুলো জানা জরুরি-
★অবশ্যই গুরুত্বের সঙ্গে খেয়াল রাখতে হবে জরিপের মাধ্যমে প্রণিত রেকর্ড। খতিয়ান ও নকশা যাচাই করে নিতে হবে।
★ জমির মৌজা, খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর ও উক্ত দাগে জমির মোট পরিমাণ দেখে নিতে হবে।
★ জমি কেনার আগে উক্ত জমির সিএস রেকর্ড, এসএ রেকর্ড, আরএস রেকর্ড এবং মাঠ পর্চাগুলো ভালোভাবে দেখে নিতে হবে।
★ বিক্রেতা যদি জমিটির মালিক ক্রয়সূত্রে হয়ে থাকেন তাহলে তার কেনার দলিল রেকর্ডের সঙ্গে মিল করে যিনি বেচবেন তার মালিকানা সঠিক আছে কিনা তা নিশ্চিত হতে হবে।
★ জমির বিক্রিকারী উত্তরাধিকারসূত্রে জমিটি পেয়ে থাকলে সর্বশেষ জরিপের খতিয়ানে তার নাম আছে কিনা তা ভালো ভাবে খতিয়ে দেখতে হবে। যদি সর্বশেষ খতিয়ানে বিক্রেতার নাম না থাকে, তাহলে তিনি যার কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে জমিটি পেয়েছেন তার মূল মালিকের সংঙ্গে বিক্রেতার নামের যোগসূত্র কিংবা রক্তের সস্পর্ক আছে কিনা বিষয়টি ভালো ভাবে যাচাই করে নিতে হবে।
যদি মাঠ পর্চার মন্তব্য কলামে কিছু লেখা থাকে যেমন (AD) তাহলে বুঝতে হবে উক্ত খতিয়ানের বিরুদ্ধে সত্যায়ন বা শুদ্ধতার পর্যায়ে আপত্তি রয়েছে, সেক্ষেত্রে জমি ক্রয়ের আগে জরিপ অফিসে জমিটির সর্বশেষ অবস্থা জেনে নিতে হবে।
★ তবে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত জমি বিক্রিকারীর শরিকদের সঙ্গে জমি বিক্রিকারীর সম্পত্তি ভাগাভাগির বণ্টননামা বা ফারায়েজ দেখে নিতে হবে।
★ জমি বিক্রিকারীর নিকট থেকে সংগৃহীত দলিল, বায়না দলিল, খতিয়ান, মাঠ পর্চা ইত্যাদি কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গিয়ে তলবকারী বা স্বত্বলিপি রেজিস্ট্রারের কাছে গিয়ে কাগজপত্রের সঠিকতা যাচাই করে নিতে হবে।
★ জমি কেনার ক্ষেত্রে যিনি জমি কিনবেন তাকে মনে রাখতে হবে যে ১৯১৩ সালের সরকারি পাওনা/দাবি আদায় আইনের ৭ ধারায় বলা আছে সার্টিফিকেট মামলাভুক্ত সম্পত্তি বিক্রয়যোগ্য নয়.

আইনস্টাইনের যিনি ড্রাইভার ছিলেন,


তিনি একদিন আইনস্টাইনকে বললেন - আপনি প্রতিটি সভায় যে ভাষণ দেন সেইগুলো শুনে শুনে আমার মুখস্থ হয়ে গেছে।" -আইনস্টাইন তো অবাক!
উনি তখন বললেন "বেশ তাহলে এর পরের মিটিংয়ে যেখানে যাবো তারা আমাকে চেনেন না, তুমি আমার হয়ে ভাষণ দিও আর আমি ড্রাইভার হয়ে বসে থাকবো"
-এরপরে সেই সভায় তো ড্রাইভার হুবহু আইনস্টাইন-এর ভাষণ গড় গড় করে বলে গেলেন। উপস্থিত বিদ্বজ্জনেরা তুমুল করতালি দিলেন। এরপর তাঁরা ড্রাইভারকে আইনস্টাইন ভেবে গাড়িতে পৌঁছে দিতে এলেন।
-সেই সময়ে একজন অধ্যাপক ড্রাইভারকে জিজ্ঞেস করলেন "স্যার, ঐ আপেক্ষিক এর যে সঙ্গাটা বললেন, আর একবার সংক্ষেপে বুঝিয়ে দেবেন?"
-আসল আইনস্টাইন দেখলেন বিপদ, এবার তো ড্রাইভার ধরা পড়ে যাবে। কিন্তু তিনি ড্রাইভার-এর উত্তর শুনে তাজ্জব হয়ে গেলেন। ড্রাইভার উত্তর দিল।। -"এই সহজ জিনিসটা আপনার মাথায় ঢোকেনি ? আমার ড্রাইভারকে জিজ্ঞেস করুন সে বুঝিয়ে দেবে"
বিঃদ্রঃ- জ্ঞানী ব্যক্তিদের সাথে চলাফেরা করলে আপনিও জ্ঞানী হবেন। আপনি যেমন মানুষের সাথে ঘুরবেন তেমনই হবেন।
এই জন্যে কথায় আছে,
"সৎ সঙ্গে স্বর্গ বাস,
অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ"।

—হুমায়ূন আহমেদ

 যদি কখনো কোনো তরুণীর প্রতি তীব্র আকর্ষণ বোধ করো, তখন অবশ্যই তুমি সেই আকর্ষণের স্বরূপ অনুসন্ধান করিবে। দেখিবে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু তুচ্ছ শরীর। শরীর যেহেতু নশ্বর, সেহেতু প্রেমও নশ্বর।

রাগান্বিত ব্যাক্তিদের অন্তর পরিস্কার থাকে। মনে যা আসে বলে ফেলে। কিন্তু কিছু ব্যাক্তি আছে যারা মনে এক কথা রেখে মুখে অন্য কথা বলে মিউ মিউ করে। এরা বড় বিপদ জনক।

কোনদিন, আচমকা একদিন ভালোবাসা এসে যদি হুট করে বলে বসে,
"চলো", যেদিকে দু'চোখ যায় চলে যাই, যাবে?

কিছু ভুল মানুষকে, অনেক কিছু শিখিয়ে দেয়। কিছু কষ্ট মানুষকে, পাথর করে দেয়। কিছু অভিমান মানুষকে, অনেক পর করে দেয়। আর কিছু বাস্তবতা মানুষকে অনেক বদলে দেয়।

“মানুষ যতটা সুখী হতে চায়, সে ততটাই সুখি হতে পারে। সুখের কোনো পরিসীমা নেই। ইচ্ছে করলেই সুখকে আমরা আকাশ অভিসারী করে তুলতে পারি।”

ক্ষুদা লাগার আগেই কাউকে তুলে খাওয়াবেন না, নয়তো সে ক্ষুদা লাগলে কেমন লাগে বুঝবে না।



All reaction

মঙ্গলবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৩

দীর্ঘ শ্বাস


কখনো কারো দীর্ঘশ্বাসের কারণ হবেন না। মানুষের দীর্ঘশ্বাস খুব খারাপ জিনিস। আপনি কাউকে ঠকিয়েছেন? কাঁদিয়ে,শ্বাসিয়ে হৃদপিণ্ডে আগুন লাগিয়ে চলে গেছেন?কষ্ট দিয়েছেন? অতিরিক্ত অবহেলা করেছেন.?মানুষের সাথে খারাপ ব্যবহার করেছেন.?
যে মানুষটা আপনাকে অন্ধের মত বিশ্বাস করত তার বিশ্বাস ভেঙে দিয়েছেন!
মনে রাখবেন, মানুষটা আপনার উপর কোনো প্রতিশোধ না নিলেও সে যতবার আপনার কথা ভেবে দীর্ঘশ্বাস ফেলবে ততবারই তার আত্মা একটা নালিশ নিয়ে যাবে সৃষ্টিকর্তার কাছে। সৃষ্টিকর্তা সব দেখেন।
আপনি যত ভালো মানুষের মুখোশ পড়ে থাকেন না কেন, অথবা কাউকে ঠকিয়ে যতই সুখের সাগরে ভাসেন না কেন, কারো অন্তরে আঘাত দিলে সেটার শাস্তি আপনাকে দুনিয়াতেই ভোগ করতে হবে।
যে মানুষটাকে আপনি ঠকিয়েছেন সে যদি একসময় এসে আপনাকে মাফ করে দেয়, কোন অভিশাপ না দেয়,তবুও শাস্তি আপনাকে ভোগ করতেই হবে।
"রুহের হায়" বলতে একটা কথা আছে। আমরা যেটাকে "Revange of Nature" বলি। প্রস্তুত থাকবেন সর্বদা, মানুষ ছেড়ে দিলেও প্রকৃতি কাউকে ছেড়ে দেয় না.